২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বার্তাটি লিখেছেন: shuddhobarta24@

আমার সম্পর্কে : This author may not interusted to share anything with others
প্রচ্ছদ বিভাগ যুবদের কথা

কিছু কথা মিত্রের জন্য ব্যথা-সাফাত রহমান

(১)
সিসিক নির্বাচনে সরকার প্রদত্ত জামায়তের ভোটের অংক নিয়ে চলছে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। মিত্র পক্ষ এ ব্যাপারে এক ধাপ এগিয়ে। মিত্র পক্ষের জাতীয় নেতৃবৃন্দের চাইতে পাড়া গায়ের তথাকথিত নেতারা যেন এক একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য। জামায়াত জোটে থাকবে কি না তারা সেটা এখান থেকেই নির্ধারণ করছেন।

(২)
জোটের ব্যাপারে জামায়াতের অবস্থানঃ
জামায়াত দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ২০ দলীয় জোটে আছে। জামায়াতেরও তৃনমূল নেতাকর্মীরা চায় জামায়াত জোট থেকে বের হয়ে যাক। তৃনমূল পর্যায়ে রাজনীতি করে জাতীয় বিষয়গুলো বোধগম্য হওয়ার সুযোগ নাই। তাই জামায়াতের হাইকমান্ড তৃনমুলের দাবী উপেক্ষা করে এখনো জোটে আছে, আর সেটা মুলত দেশ ও জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর স্বার্থে। এটা স্পষ্ট বলে দেই, জামায়াত কখনো জোট ভাঙ্গার দায়িত্ব বা দায়ভার নিবে না। বিএনপি জোট ভেঙ্গে দিলে সেটাও জামায়াত সাদরে গ্রহন করবে। কারন, জামায়াতের হারানোর কোন ভয় নাই। যা হারাবার তা ইতিমধ্যে হারিয়ে ফেলেছে।

(৩)
জামায়াত ক্ষমতা নির্ভর কোন রাজনৈতিক আদর্শ নয়। জামায়াত ক্ষমতায় থাক বা না থাক, জামায়াত তার লক্ষ্যপানে চলছে অবিচল। বাতিলের কাছে কখনো মাথা নত করেনি করবেও না ইনশাআল্লাহ। তার উজ্জল দৃষ্টান্ত জাতীয় নেতৃবৃন্দ ফাঁসীর মঞ্চে গিয়েও আপোষ করেনি কিংবা কাঁদেওনি। কিন্তু মিত্র পক্ষ তাদের নেত্রী জেলে যাওয়ার পর কান্নার সংবাদ সম্মেলন করে কেদে কেদে নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আন্দোলন তো সব সময় ইদের পরে হয়!

(৪)
সিসিক নির্বাচনে সরকারের দয়াপরবশ (ষড়যন্ত্র) একটি পদ পেয়ে যে আস্ফালন করছেন তা নিজেদের রাজনৈতিক অদূরদর্শীতার পরিচয় বহন করছেন। আমি বিশ্বাস করি গেঁয়ো (অশিক্ষিত, অদূরদর্শী ও গ্রুপিংবাজ) কতিত নেতাদের কথায় মিত্র পক্ষের নেত্রী কখনো কান দিবেন না যদিও তাদের স্থায়ী কমিটিতে একাদিক আওয়ামী পেইড দালাল বিদ্যমান। যারা নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ীঘর রক্ষা ও জেল থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সর্বদা আতাত করে যাচ্ছে। যার ফলে অদূর ভবিষ্যতেও ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

(৫)
জামায়াত কারো নির্বাচনী শ্রমিক নয়, শুধু দিয়ে যাবে। সবকটি সিটিতে সমর্থন দিলেও মাত্র একটিতে তাদের কথা রাখতে আপনারা নারাজ। আপনারা ভাবছিলেন শেষ পর্যন্ত জামায়াত আপনাদের নতি স্বীকার করবে। কিন্তু সেটা ভুল! মনে রাখবেন, আগের জামায়াত আর এখন নেই। নেতৃত্বের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে জামায়াতের। নতুন চিন্তার মানুষ এখন সেট হচ্ছে সর্বস্তরে। সুতরাং আগের দিন আর নাই! নতুন করে ভাবতে শিখুন জামায়াতকে নিয়ে।

(৬)
স্বীকার করুন আর না ই বা করুন, জামায়াত বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি হিসেবে অনেক আগেই আবির্ভূত হয়েছে। আর তৃতীয় শক্তি ছাড়া এক কিংবা দুই কখনো ই চলতে পারবে না। হলফ করে বলতে পারি, সামনে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যদি ক্ষমতায় যেতে না পারে তবে দলটা বিলুপ্তির পথে হাটবে সেটা নিশ্চিত।

(৭)
বিএনপির প্রচুর জনসমর্থন আছে পুরো দেশজুড়ে। কিন্তু বিএনপি সে সকল মানুষের চাওয়া পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপির আন্দোলনের প্রতি সাধারন মানুষের আস্থা চলে গেছে। সরকারের জুলুম নির্যাতনের বিপরীতে ২য় শক্তি হিসেবে এখনো বিএনপিকে মানুষ সাপোর্ট দিচ্ছে। কিন্তু বিএনপি সাধারন মানুষের সমর্থনের আমানত রক্ষায় সচেষ্ট নয়।

(৮)
মিত্র বন্ধুরা কষ্ট পেলেও বলতে হচ্ছে, বিএনপির তৃনমূল থেকে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত অশিক্ষিত অদূরদর্শী নেতৃত্বে সয়লাব। যার ফল আজকের ভংগুর বিএনপি। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় চায়নার সাথে তারেক রহমানের সম্পর্কের অবনতির কারনে আজ অবদি বিএনপি ক্ষমতা বাহিরে। হাওয়া ভবনের ইতিহাস না ই বা বললাম।

(৯)
তাই, জোটে থাকা না থাকায় জায়ামাতের কিছু যায় আসে না। জামায়াতের রাজনৈতিক দর্শন বুঝতে হলে আপনার গেয়ো নেতাদের পূনঃজন্ম হওয়া লাগবে। বর্তমান বাংলাদেশের সব চাইতে নির্যাতিত রাজনৈতিক দল জামায়াত। একবার কি ভাবছেন? এতকিছুর পরও কিভাবে জামায়াত ঠিকে আছে? সেটার নাম আদর্শ। যেটা আপনাদের নাই। জাতীয়তাবাদ কোন সার্বজনীন আদর্শ নয়, এটি খুব ই সংকীর্ণ একটা মনমানসিকতা সম্পন্ন একটি অস্থায়ী আদর্শ। আর জামায়াতের রাজনৈতিক আদর্শ চৌদ্দশত বছরের পুরনো, যা পৃথিবীতে আজও সমানভাবে প্রযোজ্য। জায়ামাতের আদর্শের কাছে এদেশের সবকটি রাজনৈতিক দল অনেক আগেই নৈতিকভাবে পরাজিত।

সুতরাং, নিজেদের ঘর সামলান। জামায়াত নিয়ে ত্যানা প্যাঁচানো বাদ দিয়ে নিজেদের ঘরের প্যাঁচ খুলুন। যে আদর্শে অন্ধ হয়ে গেছেন সে আদর্শ নিয়ে স্টাডি করুন। একজন মুসলিম হিসেবে নিজের অবস্থান পরিস্কার হয়ে যাবে।

(১০)
ইসলামে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের কোন স্থান নেই। জামায়াতও আপনাদের আদর্শে বিশ্বাসী নয়। এটি একটি রাজনৈতিক জোট। আজ আছে কাল থাকবে না। জামায়াত নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না বা কয়টা ভোট পাইলো কি পাইলো না সেটা নিয়ে আপনার এত মায়াকান্নার প্রয়োজন পড়ে না। গায়ে বসে যদি আপনি ই সব নির্ধারন করেন তাহলে আপনার হাইকমান্ড উপরে বসে কি আঙ্গুল চুষেন?

জামায়াতকে আঘাত করে ভাঙগা যায় না, আর ভেঙ্গে গেলেও প্রতিটা টুকরা থেকে নতুন জামায়াতে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হয়।

এতকিছুর পরও জামায়াত আছে
থাকবেও ইনশাআল্লাহ!
শুধু হারিয়ে যাবে নমরুদ, ফিরাউনের উত্তরসূরীরা।

সাফাত রহমান
সিলেট
০১-০৮-২০১৮

Leave a comment