একটা সময় নাটক প্রচারের একমাত্র মাধ্যম ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন। সে সময় একটি নাটক দেখার জন্য সপ্তাহ জুড়ে অপেক্ষায় থাকতো দর্শকরা। সময়ের পালাবদলে অনেক বেসরকারি চ্যানেলের আবির্ভাব হয়। এসব চ্যানেলে প্রচার হতে থাকে নানা ধরনের নাটক। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ধারাবাহিক ও একক নাটক প্রচার করতে থাকে তারা। তবে ডিজিটাল ফরমেটের আবির্ভাবের ফলে কমতে থাকে চ্যানেলে নাটক প্রচারের রীতি। আর এখন তো চ্যানেল নয়, ইউটিউবই হয়ে উঠেছে নাটক প্রকাশ ও প্রচারের অন্যতম মাধ্যম। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলও তাদের নাটক ইউটিউবে প্রকাশ করছে। নাটক থেকে আয়ের অন্যতম মাধ্যমও ইউটিউব। গত অর্ধ দশকে নাটক প্রকাশের বেশ কিছু শক্তিশালী ইউটিউব চ্যানেল এসেছে, যারা বড় আয়োজন ও বাজেটের নাটক প্রকাশ করছে। আবার কিছু সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও নাটক প্রকাশ করছে। গত পাঁচ-ছয় বছরে নাটকে যে চ্যানেলগুলোর আধিপত্য দেখা যাচ্ছে সেগুলো হলো- সিএমভি, সুলতান এন্টারটেইনমেন্ট, সিনেমাওয়ালা, ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্ট, জি-সিরিজ বাংলা নাটক, লেজারভিশন, ক্যাপিটাল ড্রামা, এনএএফ এন্টারটেইনমেন্ট, সিডি চয়েস ড্রামা, বঙ্গ প্রভৃতি। এর বাইরে চ্যানেল আই, এনটিভি, বাংলাভিশন, দীপ্ত টিভি, গাজী টিভি, বৈশাখী টিভি, এটিএন বাংলাসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলও তাদের ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত নাটক প্রকাশ করছে। একক নাটকের বাইরে মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘সিনেমাওয়ালা’ ইউটিউব চ্যানেল বেশ আগে থেকেই ধারাবাহিক নাটকও প্রচার করছে। এই চ্যানেলে প্রচারিত চলতি দু’টি ধারাবাহিক- ‘দেনা পাওনা’, ‘এটা আমাদের গল্প’ ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পাচ্ছে।
অন্যদিকে, ঈদ উৎসবে সিএমভি, সুলতান এন্টারটেইনমেন্ট, ক্যাপিটাল ড্রামার মতো চ্যানেলগুলো ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা বাজেটের নাটকও নির্মাণ করছে। প্রশ্ন আসতে পারে এত টাকা বিনিয়োগ করে নাটক নির্মাণ করে লাভ কী? বিভিন্ন প্রযোজকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি নাটকেই এখন থাকছে এক কিংবা একাধিক স্পন্সর। স্পন্সর কোম্পানিগুলোও নাটকে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে আগ্রহী। যে চ্যানেলের দর্শকপ্রিয়তা কিংবা ভিউ যত বেশি, সেসব চ্যানেলের নাটকেই স্পন্সর করতে তারা আগ্রহী। এর বাইরে নাটকের দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় ইউটিউব থেকেও আয় বেশি হচ্ছে। পাশাপাশি নাটকের ক্লিপগুলো ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে আলাদা করেও প্রকাশের অপশন রয়েছে। এদিকে, দেশের অবস্থা স্থিতিশীল না থাকলেও আসছে ঈদের জন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো এরইমধ্যে বড় বাজেটের নাটক নির্মাণ করার প্রস্তুতি নিয়েছে। সেসব নাটকের শুটিংয়েই ব্যস্ত এখন নির্মাতা-শিল্পীরা। ইউটিউবে নাটক প্রকাশের ইতিবাচক দিকের কথা জানিয়ে নির্মাতা রুবেল হাসান বলেন, ইউটিউবে এক থেকে দেড় ঘণ্টা নাটক নির্মাণ করছেন এখন নির্মাতারা। এতে করে একটি গল্প সুন্দরভাবে শেষ করার একটা সুযোগ থাকে। পাশাপাশি নির্মাতা ও শিল্পীরাও সুযোগ পান তাদের মেধা আরও ভালোভাবে প্রকাশের। যেটা টিভি চ্যানেলের ধরাবাঁধা সময়ে করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর এখন তো বাজেটও বেশি নাটকের। যার ফলে একটি মানসম্পন্ন কাজ দর্শকদের উপহার দেয়া যায়। সুলতান এন্টারটেইনমেন্টের কর্ণধার তানভীর মাহমুদ বলেন, এখন দর্শক ইউটিউবে নাটক দেখতে অভ্যস্ত। তা ছাড়া, বিজ্ঞাপনের আধিক্য নেই, যখন খুশি ইচ্ছামতো সময়ে দেখে নেয়া যাচ্ছে। এসব নানা কারণে ইউটিউবে মানসম্মত নাটকের ভিউও বেশি। ঈদেও আমরা বড় বাজেটের বেশ কিছু নাটক নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

প্রতিনিধি