1. abusufian7389@gmail.com : .com : sk .com
  2. ashfakur85@gmail.com : আশফাকুর রহমান : Ashfakur Rahman
  3. b.c.s.bipro@gmail.com : বিপ্র দাস বিশু বিত্রম : Bipro Das
  4. zihad0292@gmail.com : Zihad Ul Islam Mahdi : Zihad Ul Islam Mahdi
  5. ahmedmdmahfuz@gmail.com : মোঃ মাহফুজ আহমদ : মোঃ মাহফুজ আহমদ
  6. nazimahmed2042@gmail.com : Najim Ahmed : Najim Ahmed
  7. shahadotchadni@gmail.com : Md Sh : Md Sh
  8. ashfakur86@gmail.com : শুদ্ধবার্তা ডেস্ক : SB 24
  9. shuddhobarta24@gmail.com : shuddhobarta24@ : আবু সুফিয়ান
  10. surveyor.rasid@gmail.com : Abdur Rasid : Abdur Rasid
শীত আসতেই দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী ভাইরাস        
শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

শীত আসতেই দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী ভাইরাস

  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬

শীত আসতেই দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস; আক্রান্ত হলেই মৃত্যু প্রায় অবধারিত। এরই মধ্যে দেশের ৩৫ জেলায় শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস। ভয়ংকর এ ভাইরাসটির বিস্তার ও সংক্রমণের ধরনও পরিবর্তন হচ্ছে উদ্বেগজনক হারে।

এমনই উদ্বগজনক তথ্য বেরিয়ে এসেছে দেশের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছর (২০২৫) রেকর্ড করা চারটি কেসের সবকটিতেই ১০০ শতাংশ মৃত্যুর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো একটি ‘অ-মৌসুমি কেস’ পাওয়া গেছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আইইডিসিআরের মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে এ তথ্য জানান সংস্থাটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা ।

জানা গেছে, গত বছর এ ভাইরাসে আক্রান্ত ৪ জনের সবাই মারা গেছেন (মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশ)। আর বিশ্বব্যাপী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ। এখনও কার্যকর কোনো ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়নি এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে, যা একে করে তোলে আরও ভয়ঙ্কর।

নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক হলো ফলখেকো বাদুড়। বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাব দিয়ে দূষিত হয় খেজুরের কাঁচা রস। খেজুরের সেই দূষিত কাঁচা রস খেলে সংক্রমিত হয় মানুষ। এছাড়া নেশাজাতীয় পানীয় ‘তাড়ি’ও এই ভাইরাস ছড়ানোর মাধ্যম হতে পারে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মায়ের বুকের দুধেও এই ভাইরাস পাওয়া গেছে, যা এক বিরল ও উদ্বেগজনক ঘটনা।

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত ৫-৭ দিনের মধ্যে জ্বর, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, পেশীতে ব্যথা, ঘুমঘুম ভাব, বমি, ঝিমুনি ও অচেতনতার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। রোগী মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভুগতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইইডিসিআরের উপস্থাপিত প্রবন্ধে দেখা যায়, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী— এই চার জেলায় চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশুর ঘটনাটি ছিল দেশে প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’, যা শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম, খেজুর, আম) খাওয়া, যা নিপাহ ছড়ানোর একটি নতুন ও এলার্মিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

নিপাহ ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঘটছে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে খেজুরের কাঁচা রসকে প্রধান উৎস মনে করা হলেও ২০২৫ সালে নওগাঁর কেস প্রমাণ করে, বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত যে কোনো আধা-খাওয়া ফল সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং সারা বছরই তা সম্ভব। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটে উল্লেখ করে আরও বলা হয়, প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমণ ছড়ায়, যা স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, ‘২০২৫ সালের অ-মৌসুমি কেস এবং নতুন সংক্রমণ পথ আমাদের জন্য একটি বড় ওয়ার্নিং সিগন্যাল। নিপাহ এখন শুধু শীত বা খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা একটি সারা বছরের এবং বহুমুখী সংক্রমণের হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।’

সতর্কতা ও প্রতিরোধ: খেজুরের কাঁচা রস একেবারেই পান করা যাবে না, কারণ মশারি দিয়ে খেজুর গাছ ঢেকে রাখার পদ্ধতি ‘নিরাপদ’ নয়। খেজুরের রস থেকে নিরাপদ বিকল্প হলো খেজুরের গুড় তৈরি ও ব্যবহার করা। ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে, বিশেষ করে টমেটো, পেয়ারা, বরই জাতীয় ফলগুলো। গাছের নিচে পড়ে থাকা বা ফাটা ফল অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

নিপাহ ভাইরাস একটি মারাত্মক ও প্রাণঘাতী ভাইরাস, যা বাদুড় থেকে মানুষে ছড়ায়। বর্তমানে এর বিরুদ্ধে কোনো ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, তাই এ থেকে রক্ষা পেতে হলে শীতকালে খেজুরের কাঁচা রস থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি। সেইসঙ্গে আধা খাওয়া ফলও পরিহার করা উচিত। পাশাপাশি সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সচেতনতা বজায় রাখা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

এই বিভাগের আরো সংবাদ
shuddhobarta24
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.