২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বার্তাটি লিখেছেন: আশফাকুর রহমান

আমার সম্পর্কে : বার্তা বিভাগ প্রধান
প্রচ্ছদ বিভাগ খেলাধুলা

ব্রাজিলের কাছে যে ৬টি কারনে বেলজিয়াম হারবে

ডেস্ক নিউজ: ব্রাজিলের কাছে যে- বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এরই নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। আর্জেন্টিনা, জার্মানী, স্পেন, পর্তুগালকে হারানো অঘটনের বিশ্বকাপে একমাত্র আলো হয়ে টিকে আছে তারাই। এবার সেই ব্রাজিলই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। তাদে প্রতিপক্ষ ইউরোপের অন্যতম সেরা শক্তিশালী দল বেলজিয়াম।

দুই দলের অসংখ্য তারকার ছড়াছড়ি। ব্রাজিলে যেমন নেইমার কৌতিনহো, মার্সেলোরা আছে, তেমনি বেলজিয়ামে আছে হ্যাজার্ড, ডি ব্রুইন, লুকাকুর মত তারকারা। আর দুই দলের এই লড়াইয়ে তাই থাকছে বাড়তি উত্তাপ। তবে অন্তত ৬ কারনে এই ম্যাচে জিতবে ব্রাজিল।

১. ডিফেন্স: কথায় আছে আক্রমন করো এবং ম্যাচ জিতো। আর ডিফেন্স শক্ত করো এবং শিরোপা জিতো। ব্রাজিলের ডিফেন্স এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে শক্তিশালী ডিফেন্স। সিলভা, মিরান্ডা, মার্সেলো, ফ্যাগনারকে নিয়ে গড়া বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ডিফেন্স লাইন এতটাই শক্তিশালী যে প্রতিপক্ষে ঠিক মত শটও নিতে পারেনা ব্রাজিলের গোলপোষ্টে। এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল। আর চারটি ম্যাচে ব্রাজিলের জালে মাত্র একবার বল পাঠাতে পেরেছে প্রতিপক্ষ দল গুলো এবং সব মিলিয়ে শট নিতে পেরেছে ৫বার। এক সিলভা এবং মিরান্ডাই প্রতিপক্ষের ১২টি শট ব্লক করেছে এই সময়ে।

২. শক্তিশালী বেঞ্চ: ব্রাজিলের এই দলটিতে আছে অনেক বেশি পরিমানে ম্যাচ জেতানো তারকা। ফলে ব্রাজিল দলটি এখন আর কোন একক তারকার উপর নির্ভরশীল নয়। আর এত ম্যাচ উইনারের মধ্যে অনেকের জায়গাই হয়না একাদশে।

রবার্তো ফিরমিনো। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের সেরা ফরোয়ার্ডদের একজন ছিলেন। অথচ একাদশেই জায়গা হয়না তার। ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোলকিপার বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দামী গোলকিপার। প্রিমিয়ার লিগে ম্যানসিটিকে একাই জিতিয়েছেন অনেক ম্যাচ। তারই জায়গা হয়না একাদশে। বাইরেই সময় কাটাতে হচ্ছে ফার্নান্দিনহো বা মার্কুইনহোসের মত তারকাদের।

৩. গোল করার ক্ষমতা: মেক্সিকোর বিপক্ষে নেইমার বলেছিল, আমাদের জিততে হলে শুধু গোল করতে হবে। কারন, আমরা জানি, আমাদের ডিফেন্স অনেক শক্তীশালী। আর শক্তিশালী ডিফেন্সের কারনে নির্বার হয়ে আক্রমন চালাতে পারেন নেইমার, কৌতিনহো, উইলিয়ানরা। এদিকে বেলজিয়ামেও আছে অনেক ভালো ভালো তারকা। ফলে তারাও গোলের জন্যই খেলবে। আর সেটা হলেই বেশি সুবিধা ব্রাজিলের। প্রতিপক্ষের অর্ধে জায়গা পাবে প্রচুর এবং সেখানেই ব্রাজিল তছনছ করে দিতে পারে বেলজিয়ামকে।

৪. দায়ীত্ব: টিটে এই দলের সব খেলোয়ারকেই অধিনায়ক করেছিল। কেন করেছিল সেটাও জানিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, আমি চাই সবাই দায়িত্ব নিয়ে খেলতে জানুক। আর টিটের সেই কাজটিই কতটা সঠিক ছিল সেটাই প্রমান পাচ্ছে এখন ব্রাজিল। বিশ্বকাপে প্রতিটি খেলোয়ারই নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন এবং নিজের কাজগুলো খুব ভালোভাবেই করতেছে। কৌতিনহো গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছিল। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আবার জ্বলে উঠল পাউলিনহো। সঠিক সময়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে আবার জ্বলে উঠল নেইমার।

৫. ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার: এই বিশ্বকাপে যদি বলা হয় কিসের অভাব ছিল জার্মানীর? তাহলে একটাই উত্তর আসবে। একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের। আর সেই জায়গাটিতে ব্রাজিল এতটাই শক্তিশালী যে তাদের আছে একটি নয়, দুটি সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। ক্যাসমিরো ব্রাজিল দলে নিয়মিত। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে নিয়মিত খেলেন তিনি। বলা হয় বিশ্বের সেরাও তিনিই। তার প্রতিযোগী ম্যানসিটির ফার্নান্দিনহো। গার্দিওলার মতে বিশ্বের সেরা তিনজনের একজন এই ফার্নান্দিনহো। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ক্যাসমিরো না থাকলেও ফার্নান্দিনহো থাকায় তাই চিন্তা করতে হচ্ছেনা ব্রাজিলকে।

৬. বেলজিয়ামের আক্রমন ভাগ ও মাঝমাঠ ভালো হলেও ডিফেন্সে অনেক ফাকঁফোকর রয়েছে। আর ব্রাজিলের মত দলের বিপক্ষে সামান্য ভুলও অনেক মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে যেকোন দলে জন্যই। আর সেই বিপদ হতে পারে ট্রুনামেন্ট থেকে বিদায়।

Leave a comment