৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বার্তাটি লিখেছেন: আশফাকুর রহমান

আমার সম্পর্কে : বার্তা বিভাগ প্রধান
প্রচ্ছদ বিভাগ জীবনযাপন

২০০ বছরের পুরনো গায়েবি মসজিদটি ফরিদপুরে

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের রায়নগর গ্রামে অবস্থিত রায়নগর আউলিয়া গায়েবি মসজিদ। প্রায় দুই শ’ বছর আগে নির্মিত মসজিদটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্য বহন করে আছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক মানুষ এটি দেখতে আসেন। ঘুরে ঘুরে দেখেন, মুগ্ধ হন, নামাজও আদায় করেন।

ভাঙ্গা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পূর্বে এবং ভাঙ্গা-মাওয়া সড়কের মালিগ্রাম বাস স্ট্যান্ড থেকে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে রায়নগর গ্রামে গেলে ঐতিহাসিক মসজিদটি দেখা যাবে।

এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি চারকোণা। আয়তন ৬.৭৫ মিটার বাই ৩.৬০ মিটার। এর মাঝ বরাবর অর্ধ গোলাকার গম্বুজ নির্মিত ছাদ আছে। উত্তর ও দক্ষিণে ঢালু ছাদের খিলানের প্রসারিত কর্নার আছে।

মসজিদটির সামনের দিকে রয়েছে তিনটি প্রবেশদ্বার। এর মধ্যে একটি বড়, বাকি দুটো ছোট। আলো-বাতাস প্রবেশে জন্য উত্তর ও দক্ষিণের দেয়ালে খোলা-মেলা বড় দুটি জানালা আছে।

FB_IMG_1621630899896

 

 

পূর্বপাশের সম্মুখদ্বারের খিলানে আছে প্রবেশের কুলুঙ্গি। প্লাস্টারে দেয়ালে আছে অলঙ্করণ। নকশাটি পাঁচটি আয়তাকার প্যানেলে তৈরি। যার মাঝের বর্গাকার। উভয়পাশে রয়েছে লতা-পাতার কারুকাজ।

ঐতিহাসিক মসজিদটির নির্মাণশৈলী অত্যন্ত চমৎকার। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ফুলেল নকশা ও বহুপত্রবিশিষ্ট আকর্ষণীয় খিলান অন্যতম।

মসজিদের চার কোণে চারটি মিনার। মিনারগুলো উঁচু ছাদের সঙ্গে সমানতালে মিশে আছে। প্রধান প্রবেশদ্বারের ওপরে একটি কালো পাথরে আরবিতে লেখা শিলালিপি অনুযায়ী মসজিদটি ১৮০১ সালে নির্মিত।

ইট-বালু, চুন-সুরকির মসজিদটি আকারে তুলনামূলক ছোট। একাধিকবার মসজিদটির সংস্কার হয়েছে।

এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠদের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে মসজিদের বাইরে সিমেন্টের প্লাস্টার এবং ভেতরে টাইলসের কাজ করা হয়েছে।

মসজিদটির বিস্তারিত ইতিহাস কেউ বলতে না পারলেও এলাকাবাসী ও মসজিদের খাদেম জানান, প্রায় দুই শ’ বছর আগে গোলাম হোসেন নামে একজন এটি নির্মাণ করেন। তবে এর নামকরণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, রায়নগর মসজিদ, কেউ বলেন আউলিয়া মসজিদ। তবে স্থানীয়দের কাছে গায়েবি মসজিদ নামেই বেশি পরিচিত।

IMG_20210522_030412

 

কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিটন মাতুব্বর লিটু জানান, আমাদের জন্মের অনেক আগের মসজিদ এটি। বাপ-দাদার কাছ থেকে যতটা জেনেছি তাতে মসজিদটির বয়স দুই শ’ বছরের বেশি। এখন মসজিদটি সংস্কারের অভাবে নষ্ট হতে চলছে। মাঝে মাঝে সামান্য কিছু বাজেট পাওয়া যায়, তা দিয়ে সংস্কার সম্ভব হয় না।

Leave a comment