১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বার্তাটি লিখেছেন: আশফাকুর রহমান

আমার সম্পর্কে : বার্তা বিভাগ প্রধান
প্রচ্ছদ বিভাগ বিনোদন

বিদেশি শিল্পী-কুশলী নিয়ে কাজ করতে যা মানতে হবে

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনে বিদেশি অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সংগীতশিল্পীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের দেওয়া সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি মানতে হবে। এমন নির্দেশনা দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নীতিমালায় দেশীয় চলচ্চিত্র বিদেশে শুটিং এবং বিদেশে শুটিংয়ের সময় যন্ত্রপাতিসহ বাংলাদেশ ও বিদেশি অভিনয়শিল্পী ও কলা-কুশলীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য অনুযায়ী বিদেশে শুটিংয়ের প্রয়োজন আছে কিনা, এতদসংক্রান্ত খরচের বিবরণী যথাযথ কিনা ইত্যাদি বিষয়ে খতিয়ে দেখতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (প্রশাসন ও চলচ্চিত্র) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
জানা গেছে, উপসচিব (চলচ্চিত্র-১), তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় গত ১ জুন এ নীতিমালা প্রকাশিত করেছে। অতি জরুরি বলে নীতিমালাটি ওইদিনই বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর বরাবর পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সদ্য সাবেক সচিব খাজা মিয়া স্বাক্ষরিত নীতিমালায় ২০২১ (সংশোধিত) বলা হয়েছে- দেশীয় চলচ্চিত্রে সরকারের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে বিদেশি অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সংগীতজ্ঞ, সংগীতশিল্পী ও বিজ্ঞাপনে বিদেশি শিল্পী অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। তারা সরকারের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে বিদেশি অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সংগীতজ্ঞ ও সংগীত শিল্পী যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

দেশীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন নির্মাণে সরকারের পূর্বানুমতিক্রমে বিদেশি শিল্পী অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ বিষয়ে অনুমোদনের জন্য বিজ্ঞাপন নির্মাতা কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরাসরি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রযোজক বা পরিচালক বা প্রতিষ্ঠানকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আবেদন দাখিল করতে হবে। এ ধরণের বিদেশি শিল্পীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন চিত্র তৈরির ক্ষেত্রে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে প্রতি বিদেশি শিল্পীর জন্য ২ (দুই) লক্ষ টাকা ফি (ভ্যাট ও আয়কর ব্যতীত) এবং নির্মিত বিজ্ঞাপন প্রচারের সময় টিভি চ্যানেল কর্তৃক এককালীন প্রতি বিজ্ঞাপনের জন্য ২০ (বিশ) হাজার টাকা ফি হিসেবে সরকারকে প্রদান করতে হবে, দেশীয় চলচ্চিত্র বিদেশে শুটিং এবং বিদেশে শুটিংয়ের সময় যন্ত্রপাতিসহ বাংলাদেশ ও বিদেশি অভিনয় শিল্পী ও কলা-কুশলীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। এ অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কমিটি যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ প্রদান করবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য অনুযায়ী বিদেশে শুটিংয়ের প্রয়োজন আছে কিনা, এতদসংক্রান্ত খরচের বিবরণী যথাযথ কিনা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করবে।
কমিটির প্রধান হবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও চলচ্চিত্র)। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (চলচ্চিত্র), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জননিরাপত্তা বিভাগের একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (চলচ্চিত্র-১)।
নীতিমালয় বলা হয়েছে- বিনা পারিশ্রমিকে বিদেশি অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সংগীতজ্ঞ, সংগীতশিল্পী ও বিজ্ঞাপনে বিদেশি শিল্পীদের অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ করা যাবে না। শিল্পীদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্রে পারিশ্রমিকের পরিমাণ ও পারিশ্রমিক পরিশোধের পদ্ধতি উল্লেখ থাকতে হবে। বিদেশি অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সংগীতজ্ঞ, সংগীতশিল্পী ও বিজ্ঞাপনে বিদেশি শিল্পীদের প্রাপ্ত সম্মানী দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আয়কর ও ভ্যাটের আওতাভুক্ত হবেন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের নিকট চিত্রনাট্য পেশ করার সময় বিদেশি অভিনেতা বা অভিনেত্রী বা কলাকুশলীদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের নোটারাইজ কপিসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাগজপত্র পেশ করতে হবে। দাখিলকৃত প্রস্তাব পর্যালোচনার পর অনুমোদনযোগ্য বলে প্রতীয়মান হলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন অভিনয়শিল্পী, কলা-কুশলী, সংগীতজ্ঞ, সংগীতশিল্পীদের অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদানের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে সুপারিশসহ প্রেরণ করবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বিজ্ঞাপনে বিদেশি শিল্পীদের অভিনয়ের অনুমতির জন্য বিদেশি শিল্পী বা কলাকুশলীদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের নোটারাইজড কপি এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হবে।

অনুমোদনের জন্য সুপারিশকৃত বিদেশি অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সংগীতজ্ঞ, সংগীতশিল্পী ও বিজ্ঞাপনে বিদেশি শিল্পীদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় হতে ‘ওয়ার্কপারমিট’ গ্রহণ করতে হবে। সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে স্থানীয় চলচ্চিত্রে বিদেশি কণ্ঠশিল্পীর গাওয়া গান ব্যবহার করা যাবে। বিদেশি অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সংগীতজ্ঞ, সংগীতশিল্পী ও বিজ্ঞাপনে বিদেশি শিল্পী সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সময় পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। সরকারি অনুমোদন ব্যতীত তিনি বা তারা ভিন্ন কোনও ছবির কাজে বা বেসরকারি কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। অনিবার্য কারণবশত পূর্বানুমোদিত শিল্পীর পরিবর্তন প্রয়োজন হলে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সরাসরি এবং চলচ্চিত্রসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের মাধ্যমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

বিদেশি অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সংগীতজ্ঞ, সংগীতশিল্পী ও বিজ্ঞাপনে বিদেশি শিল্পীদের এদেশে আগমন, অবস্থান ও প্রত্যাবর্তনের দৈনিক সিডিউল পূর্বাহ্নেই প্রযোজক বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লিখিতভাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনকে অবহিত করবেন। সিডিউলের কোনও পরিবর্তন হলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বা প্রযোজক লিখিতভাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনকে অবহিত করবেন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে অবহিত করবে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রয়োজনবোধে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে অবগত করবে। কোনও শর্ত লঙ্ঘন করা হলে সরকার সংশ্লিষ্ট চলচ্চিত্র বা বিজ্ঞাপন নির্মাণের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে তা চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
এ নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক দেশীয় চলচ্চিত্রে বিদেশি অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সংগীতজ্ঞ, সংগীতশিল্পী ও বিজ্ঞাপনে বিদেশি শিল্পী অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রমে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ পরিলক্ষিত হলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত অনুমতি বাতিল করা হয়েছে মর্মে গণ্য হবে।

Leave a comment