৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বার্তাটি লিখেছেন: বিপ্র দাস বিশু বিত্রম

আমার সম্পর্কে : নির্বাহী সম্পাদক
প্রচ্ছদ বিভাগ সিলেট

বিশ্বনাথে প্রবাসীর ১৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ মামলার আসামী গ্রেফতার

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: বিশ্বনাথ উপজেলার পূর্ব শ্বাসরাম গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদের স্ত্রী প্রবাসী আরিফুল নেছাকে ৩ কেদার জমি ক্রয় করে দেয়ার কথা বলে ১৬ লাখ ৩৮ হাজার ৬২৪ টাকা আত্মসাৎ করেছে তার আপন ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও আরেক ভাইয়ের ছেলে। এ ব্যাপারে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালত সিলেটে (১) হাজী আব্দুন নূর এর ছেলে সেলিম আহমদ (৪০), (২) মৃত আব্দুল্লাহর ছেলে ফরিদ মিয়া (৭৭), ও তার স্ত্রী (৩) ছগিরা বেগম, সর্বসাং- পূর্ব শ্বাসরাম, ডাকঘর- নাজিরবাজার, থানা- বিশ্বনাথ, জেলা- সিলেট-কে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশ্বনাথ সি.আর মামলা নং ২৮৯, তাং ২০/০৮/২০১৮ইং। মামলা দায়ের পর ১নং আসামী সেলিম আহমদ-কে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। আদালত তাকে জেলে হাজতে পাঠিয়েছে। ১নং আসামী মোঃ সেলিম আহমদ বিশ্বনাথ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সনদপ্রাপ্ত দলিল লিখক। মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী আরিফুল নেছার-কে তার ভাই ২নং আসামী ফরিদ মিয়া জানায় পূর্ব শ্বাসরাম মৌজায় কিছু জমি বিক্রয় হবে। উক্ত জমি ক্রয় করলে ভবিষ্যতে আর্থিক ভাবে লাভ হবে। ভাইয়ের কথায় বিশ্বাস করে বিগত ১৮/০৬/১৫ইং তারিখে ১ ও ২নং আসামীর সাথে ফোনে আলাপ করে ভাই ফরিদ মিয়ার স্ত্রী ৩নং আসামী ছগিরা বেগম এর নামীয় উত্তরা ব্যাংক নাজিরবাজার শাখায় ৪ বারে মোট ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৬২৪ টাকা পাঠায় বাদী প্রবাসী আরিফুল নেছা। পরবর্তীতে বিগত ২৮/০১/১৬ইং তারিখে ৩ কেদার জমি ক্রয় করে দেয়ার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আরিফুল নেছা দেশে এসে আরো ১০ লাখ টাকা ১ ও ২নং আসামীকে নগদ সমজাইয়া দেন। এরপর বাদী জরুরী প্রয়োজনে লন্ডন চলে যান। লন্ডন চলে যাওয়ার পর বাদী ফোনে যোগাযোগ করলে আসামীগণ জানায় তার নামে জমি খরিদ করা হয়েছে। দেশে আসলে জমি ও দলিল সমজাইয়া দিবেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে বাদী দেশে আসলে আসামীরা নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপন করতে থাকেন। চিকিৎসা জনিত কারণে বাদী আবারও লন্ডন চলে যেতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে দেশে এসে আসামীগণের সাথে যোগাযোগ করে দলিল ও জমির দখল সমজাইয়া দিতে বললে আসামীরা নানা টাল বাহান করতে থাকে। এতে প্রবাসী আরিফুল নেছার মনে সন্দেহ দেখা দিলে বিগত ০৯/০৮/২০১৭ইং তারিখে ২নং আসামীকে সাথে নিয়ে ১নং আসামীর বাড়িতে গিয়ে জমির দলিল প্রদানের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে ১ ও ২নং আসামী বাদীর টাকার কথা অস্বীকার করে এবং কোন টাকা ও জমি দিবে না এবং টাকা ও জমির দাবী করলে বাদীর পরিণতি খারাপ হবে মর্মে হুমকী প্রদান করে। আসামীগণ বাদী প্রবাসী আরিফুল নেছার সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে জমি ক্রয়ের নামে ১৬ লাখ ৩৮ হাজার ৬২৪ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ব্যাপারে আসামীগণের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক সুবিচার প্রার্থনা করে আরিফুল নেছা গত ২০/০৮/২০১৮ ইং তারিখে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়ের পর ১নং আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

Leave a comment