২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বার্তাটি লিখেছেন: আশফাকুর রহমান

আমার সম্পর্কে : বার্তা বিভাগ প্রধান
প্রচ্ছদ বিভাগ আন্তর্জাতিক

প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তালেবান নেতাদের মধ্যে ঝগড়া–বিবাদ

আফগানিস্তানে সদ্যঘোষিত তালেবান সরকারের গঠন নিয়ে সংগঠনটির নেতাদের মধ্যে বড় ধরনের ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এ ঘটনা ঘটে। তালেবানের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তালেবানের একটি সূত্র বলেছে, নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের পদ-পদবি নিয়ে সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গনি বারাদার ও মন্ত্রিসভার এক সদস্যের মধ্যে বিবাদ হয়েছে। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এ ঘটনা ঘটে। তবে তালেবান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘটনা স্বীকার করেনি।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তার তিন সপ্তাহের বেশি সময় পর নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করে তালেবান।

তালেবানের এই সরকারে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। তাঁকে কেন প্রধানমন্ত্রী করা হয়েছে, সে সম্পর্কে দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়, তালেবানের মধ্যে অন্তঃকোন্দল রয়েছে। এর একদিকে আছেন বারাদার ও তাঁর সমর্থকেরা, অন্যদিকে আছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক। এর নেতৃত্বে রয়েছেন সিরাজউদ্দিন হাক্কানি। এ জন্য বারাদারকে উপপ্রধানমন্ত্রী ও সিরাজউদ্দিনকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। বারাদার ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের মধ্যকার ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে আখুন্দকে তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী করার বিষয়টিকে একটি আপসমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।

তালেবানের একটি সূত্র বিবিসির পশতু সার্ভিসকে বলেছে, বারাদারের সঙ্গে হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রভাবশালী নেতা খলিল উর-রহমান হাক্কানির তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। খলিল তালেবান সরকারের শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী। বারাদার ও খলিলের অনুসারীদের মধ্যেও ঝগড়া-বিবাদ ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে সূত্র।

কাতারে অবস্থানরত তালেবানের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে এ ঘটনা ঘটে।

তালেবানের সূত্রগুলো বলছে, বিবাদের অন্যতম কারণ, সরকারের কাঠামো নিয়ে বারাদার সন্তুষ্ট নন। এ ছাড়া তালেবানের ‘জয়ে’ কার ভূমিকা বেশি, সেটা নিয়েও বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

বারাদার মনে করেন, তাঁর মতো ব্যক্তিরা, যাঁরা কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন, তাঁদের কারণেই তালেবানের ‘জয়’ অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে, হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদস্যরা মনে করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াইয়ের মাধ্যমে তালেবানের জয় এসেছে। আর তাঁরাই ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে।

বারাদারের দাবির পেছনে অন্যতম কারণ হলো তিনি তালেবানের হয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের শান্তিচুক্তির আগে তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথাও বলেছেন। এ ছাড়া বারাদার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন।

অন্যদিকে, আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বাহিনী ও পশ্চিমা বাহিনীকে লক্ষ্য করে যেসব বড় হামলা চালানো হয়েছিল, সেগুলোয় মুখ্য ভূমিকায় ছিল হাক্কানি নেটওয়ার্ক। হাক্কানি নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত একটি সংগঠন।

এদিকে, বারাদারকে নিয়ে গত সপ্তাহ থেকে একটি গুজব ছড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, তিনি নিহত হয়েছেন। কিন্তু তালেবান সূত্র বলছে, বিবাদের পর কাবুল ছেড়ে কান্দাহারে চলে গেছেন বারাদার।

সূত্র : প্রথম আলো

Leave a comment