Home » হাতীবান্ধায় মাদ্রাসার ছাত্রী আত্মহত্যা আগে যে চিঠি লিখে গেল !

হাতীবান্ধায় মাদ্রাসার ছাত্রী আত্মহত্যা আগে যে চিঠি লিখে গেল !

অনলাইন ডেস্ক:  লালমনিরহাট হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ফাতেমা আক্তার (১৩) ভালবাসার অপবাদে সবার কাছে চিঠি লিখে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করেন।

রোববার বিকেলে ওই ছাত্রীর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তার নিজ বাড়ীতে দাপন করেন । এর আগে শনিবার সন্ধায় উপজেলার দোয়ানী সাধুর বাজার এলাকায় নিজ ঘরে সবার অজান্তে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

সে উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর বটতলা গ্রামে আব্দুল ওয়াহেদ আলীর মেয়ে । ফাতেমা আক্তার নিজ শেখ সুন্দর দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ।

আত্মহত্যা আগে যে চিঠিতে নিজ হাতে লিখল-

প্রথমে আমার সালাম নিবেন আমি এই কারণের জন্য সবাই ভাল থাকবেন আমি কোনো দিন ভাবিনি এই বাজে কাজ করবো কিন্তু পরিস্থিথি আজ আমাকে এই পথে আনতে বাধ্য করল।

আমি কোনোদিন কাউকে কিছু ফাসাইনি আমাকে দিয়ে করানো হয়েছিলো। জিহাদের সাথে সম্পর্ক আমাকে ওর মানুষ দিয়েই করিয়েছিলো। আর আমি কোনো অন্যয়া করিনি যা এইসবের জন্য হলো আমি অনেকবার বলিছি কেউ আমার কথা বিশ্বাস করেনি আমি কি এতোই খারাপ হয়েছিলাম যে আজ আমাকে এই পথে জীবন দিয়ে তার মাসুল দিতে হলো আমার আব্বু এতো পরিশ্রম করে আমাকে লেখাপড়া করিয়েছিলো তার বিনিময়ে আমি তাকে এই শিক্ষা দিলাম শুধুমাত্র ১টা ভুলের কারণে কী করব কোনো পথ ছিলোনা আমার মতো যেন আর কাউকে এই রকম ভাবে না করে কেউ অনুরোধ করে মাদ্রাসার বড়ভাই ও স্যার ম্যাডাম সাবাইয়ের কাছে অপমান হলাম।

আমার আব্বুকে আর কেউ যেন মাথাটা হেট না করে। আব্বু তোমার কাছে ১টাই অনুরোধ তুমি আমার ভাইয়ে সাথে এরকম কখনো হতে দিও না। আমাকে ক্ষমা করবে। সবাই আমাকে ক্ষমা করবেন কখনো যদি ভুল করে থাকি। আব্বু তোমাকে আর কষ্ট দিতে চাই না। ভালো থাকো তুমিতো জানো তোমার ফাতেমা কেমন ছিলো আমার জন্য দোয়া করবে। মা ক্ষমা করবে     ( খোদা হাফেজ)

জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার নিজ শেখ সুন্দর দাখিল মাদ্রাসার এক দশম শ্রেণীর ছাত্র জিহাদ সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ফাতেমা আক্তার (১৩)। এঘটনা টি জানা জানি হলে মাদ্রাসার কয়েক জন শিক্ষক ফাতেমা আক্তার কে মাদ্রাসার কক্ষে নিয়ে গিয়ে গালা গালি করেন। পরে ওই দিনেই মাদ্রাসা দুই শিক্ষক ফাতেমা আক্তার পরিবার কে জানাতে তাদের বাড়িতে যান। বাড়িতে তার বাবা মা কে না পেয়ে তার দাদীকে ঘটনা খুলে বলেন। এই লজ্জা সইতে না পেরে ফাতেমা আক্তার শিক্ষক চলে আসার পর সে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করেন।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, মাদ্রার দশম শ্রেণীর ছাত্র জিহাদের সাথে সে প্রেমে জড়িয়ে যান ফাতেমা আক্তার । এ ঘটনায় জিহাদের বাবা ওই মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল হাই  সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ফাতেমা আক্তার কে ক্লাস রুমে শাসান । লজ্জায় আর ক্ষোপে সে আত্মহত্যা করতে পারে ।

ফাতেমা আক্তার চাচা রফিকুল ইসলাম জানান, মাদ্রসার শিক্ষকদের অপমাস সইতে না পেরে চিঠি লিখে আমার ভাতীজি আত্মহত্যা করেন।

নিজ শেখ সুন্দর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আ:রাজ্জাক বলে, মাদ্রাসার ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন শুনেছি। তবে তাকে নিয়ে মাদ্রাসায় কোন শিক্ষক গলাগালি দেয়নি।

হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক এসআই আ: রাজ্জাক জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য লালমনিরহাটে মর্গে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ্য নেওয়া হবে।

 

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *