১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বার্তাটি লিখেছেন: Shuddhobarta 24

আমার সম্পর্কে : This author may not interusted to share anything with others
প্রচ্ছদ বিভাগ বিনোদন

হিট’ নায়িকার পরিণতি হয় করুণ, এইডসে মৃত্যু

বর্তমান বলিউড তারকাদের মত একনামে তাকে হয়ত সবাই চিনবেন না। তবে ভারতের দক্ষিণী ফিল্মে আশির দশক মাতিয়েছেন এমন একজন নায়িকা নিশা নূর। জীবনের ফেরে প্রযোজকের চাপে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। এইডসে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।কল্যানা আগাথিগাল’, ‘লায়ার দ্য গ্রেট’, ‘টিক! টিক! টিক!’-এর মতো প্রচুর হিট ফিল্মে অভিনয় করেছেন তিনি। মূলত তামিল এবং মালায়লম ফিল্মই তিনি করতেন।
এমন হিট নায়িকার জীবন কিন্তু ছিল হতাশায় ভরা, শেষ জীবনে অর্থকষ্টে রাস্তায় কাটাতে হয়েছে তাকে। গায়ে পোকা, মাছি বসে থাকত। শেষে এইডস-এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তার।অথচ একটা সময় নিশা নূরের অভিনয়ের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছিল ইন্ডাস্ট্রিতে। বালাচন্দন, বিষু, চন্দ্রশেখরের মতো এককালের নাম করা সব পরিচালকের সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। শোনা যায়, রজনীকান্ত এবং কমল হাসান তার রূপে-গুণে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তার সঙ্গে অভিনয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এ হেন জনপ্রিয়তাই তার ক্ষেত্রে কাল হয়ে গিয়েছিল।
খুব তাড়াতাড়ি তার ক্যারিয়ারের ‘দি এন্ড’ হয়ে যায়। ভীষণ অপ্রত্যাশিতভাবেই আচমকা ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে যান তিনি।
শোনা যায়, সে সময় নাকি এক নাম করা প্রডিউসারের খপ্পরে পড়ে গিয়েছিলেন নিশা নূর। ওই প্রডিউসার তার সঙ্গে প্রতারণা করেছিলেন। তাকে যৌন পেশায় নামতে বাধ্য করেছিলেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইন্ডাস্ট্রি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কেউই তার সঙ্গে কাজ করতে চাইছিলেন না। বাধ্য হয়েই ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন নিশা।
কাজ হারিয়ে ক্রমে আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে পড়েন তিনি। দিনের পর দিন খেতে পেতেন না। এই সময়ে তার পাশে দাঁড়ানোরও কেউ ছিল না।
অনেক বছর পর ২০০৭ সালে চেন্নাইয়ের একটি দরগার বাইরে রাস্তায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
তাকে চিনতে পেরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। সেখানে চিকিৎসায় ধরা পড়ে তিনি এইচআইভি আক্রান্ত। ২০০৭ সালের ২৩ এপ্রিল মাত্র ৪৪ বছর বয়সে এইডসে তার মৃত্যু হয়।

Leave a comment