২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বার্তাটি লিখেছেন: shuddhobarta24@

আমার সম্পর্কে : This author may not interusted to share anything with others
প্রচ্ছদ বিভাগ খোলা জানালা

বঙ্গবন্ধু -১ স্যাটেলাইট নিয়ে : লেখক কাজী সাদিক

আমাদের সাফল্য আমাদের স্বপ্ন

আপনি হয়তো ভাবছেন বঙ্গবন্ধু -১ স্যাটেলাইট দিয়ে কি লাভ হবে।তাহলে পড়েই দেখুন। বাঙালি হলে, গর্বিত হবেন নিশ্চিত।

২০১৬তে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট যে আমাদের সরকারের কতবড় সাফল্য হবে তানিয়ে উচ্ছাস করায় এক ছেলে তাচ্ছিল্যভরে আমায় বলেছিল, “ভাই খালি তো নামই শুনতেছি জীবনে দেখব বলে তো মনেহয় না!” ওয়েল, সুখবর হচ্ছে আগামীকাল ছেলেটির বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট “দেখার” ইচ্ছা পুরন হবে!
তবে দুবছর আগে যেমন, এখনো অনেকে পরিষ্কার ভাবে জানেনা বা বুঝেনা যে স্যাটেলাইটটা দ্বারা বাংলাদেশের কি কি উপকার হতে পারে! তাই চিন্তা করলাম এটা নিয়ে একটু বিশদভাবে লিখিঃ

১/ এই স্যাটেলাইটটি আমাদের টেলিকমিউনিকেশন্স, টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আর ইন্টারনেটের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করবে, যার জন্য আমরা এতদিন বিরাটাকারে ভারত এবং অন্যান্য দেশের উপর নির্ভর করে থাকতাম!
বাংলাদেশ বছরে ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতো টেলিকমিউনিকেশন্স, টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আর ইন্টারনেটের কানেক্টিভিটির জন্য অন্যদেশের স্যাটেলাইট ভাড়া নিতে! সেই ব্যয় কমে এখন এক তৃতীয়াংশ হয়ে যাবে! বেসরকারী চ্যানেল গুলির মাসেই ৩০ হাজার ডলার খরচ হত ফ্রিকুয়েন্সী কিনতে, সেই ব্যয় থাকবে না! এখন তারা কম দামে দেশের ভেতর থেকেই ফ্রিকুয়েন্সী কিনতে পারবে! দেশের স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের কাছে ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রির মাধ্যমে বছরে দেশের টাকা দেশেই থাকবে, বিদেশি নির্ভরতা কমবে। 🙂

২/ এই স্যাটেলাইটের ব্যবসায়িক সুবিধা বি-শা-ল! স্যাটেলাইটের তরঙ্গ ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে। স্যাটেলাইটের কার্যক্রম পুরোপুরিভাবে শুরু হলে আশপাশের কয়েকটি দেশে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবা দেয়ার জন্য জিয়োসিক্রোনাস স্যাটেলাইট সিস্টেম এর গ্রাউন্ড সিস্টেমসহ সব ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। ইন্ডিয়া পাকিস্তানের নিজস্ব স্যাটেলাইট আছে! কিন্তু শ্রীলঙ্কা, নেপাল ভুটান মায়ানমারদের নেই! এদের কাছে এই সার্ভিস বিক্রি করে আমরা বছরে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশী কামাতে পারব!

৩/ এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-রিসার্চ, ভিডিও কনফারেন্সিং, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সব সেক্টর ই ম্যাসিভ বুস্ট আপ করবে! প্রাকৃতিক দুর্যোগে ট্যারিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা বহাল রাখবে বঙ্গবন্ধু-১! দেশের দুর্গম দ্বীপ, নদী ও হাওর এবং পাহাড়ি অঞ্চলে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা চালুও সম্ভব হবে।
অর্থাৎ বড় বড় সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, বন্যায় যেমন আগে টেলিফোন, টেলিভিশন, ইন্টারনেট লাইন ফল করতো এখন আর তা করবে না! বান্দরবান, খাগড়াছড়ির দুর্গম এলাকাতেও সব সীমের নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক পাওয়া যাবে! বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট কাউকেই, কোন অবস্থাতেই যেতে দেবে না ” একদম নেটওয়ার্কের বাইরে”!

৪/ সামরিক এবং ল এন্ড অর্ডার খাতে এটি আমাদের একটি অনেক বড় কম্পিটিটিভ এডভান্টেজ হয়ে দাঁড়াবে! আজকাল জঙ্গী বা সন্ত্রাসীরা অনেক রিমোট এরিয়াতেও স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করছে। নিজস্ব স্যাটেলাইট না থাকায় আমরা তাদের সহজে ট্রেস করতে পারিনা! শত্রুর অবস্থান জানার জন্য পরিদর্শন – পরিক্রমা, ছবি তোলার কাজে,স্থল সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য ইন্টিলিজেন্স সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা পেতে এমনকিপারমাণবিক বিস্ফোরণ এবং আসন্ন হামলার আগাম খবরাখবর সরবরাহের কাজেও এই স্যাটেলাইটটিই আমাদের প্রধান গুপ্তচর!

৫/ টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়াও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেতারসহ ৪০ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। ইন্টারনেট ব্যবহারের বড় হুমকি “হ্যাকিং”। নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকলে “হ্যাকিং” অনেক কমিয়ে আনা যাবে!

৬/ নেভিগেশন বা জাহাজের ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনায়, গ্লোবাল পজিশনিং বা জি পি এস, ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করার ক্ষেত্রে, গামা রে বারস্ট ডিটেকশন করতে আমাদের সাহায্য করবে বঙ্গবন্ধু ১! মাটি বা পানির নিচে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিভিন্ন খনির সনাক্তকরণের মাধ্যমে নতুন সম্পদের দুয়ার খুলে দেওয়ার কাজে সাহায্য করবে বঙ্গবন্ধু-১

৭/ মহাকাশ বা জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণার এক বি-শা-ল দুয়ার উন্মোচন করবে বঙ্গবন্ধু-১! সায়েন্স স্টুডেন্টরা পড়াশোনার এবং ক্যারিয়ার অপশনের এক নতুন ডাইমেনশন পাবে! ভার্সিটিগুলোতে মহাকাশবিজ্ঞানের ডিপারটমেন্ট হবে! হাজার হাজার বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে এই এক স্যাটেলাইট দিয়েই! এই স্যাটেলাইটের হাত ধরে হয়ত আমরা পাবো আমাদের নিজস্ব মহাকাশ গবেষণা সংস্থা! একদিন আমাদের স্পেশ শাটলও মহাকাশ পাড়ি দেবে!

এই কয়টা আমি জানি বা বলতে পারি! এরকম মোট ৪০টার মত সেবা আমরা এই একটা স্যাটেলাইট থেকেই পেতে যাচ্ছি!

এই স্যাটেলাইটটিই যে এই সরকারের ১০ বছরের মধ্যে সবচে বড় সাফল্য হবে তা আসলে আর বলার অপেক্ষা রাখে না! ডিজিটাল বাংলাদেশ স্থাপনের লক্ষ্যে সবচে বড় লাফ এই সরকারের এটাই! বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আমাদের এগিয়ে নেবার সম্ভবত সবচে বড় এডভান্টেজ ই আমাদের এই স্যাটেলাইট! কারণ বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বে নিজস্ব স্যাটেলাইট আছে এমন দেশ ই আছে মাত্র ৫৬ টা!

ভালো জিনিসগুলি একটু দেরিতেই আসে! তাইতো মোট ৬ বার স্থগিত করার পরে ফাইনালি আগামীকাল ইলন মাস্কের স্পেস এক্স ফ্যালকন রকেটে করে মহাশূন্যে পাড়ি দেবে বঙ্গবন্ধু-১!

আমরা সবাই গর্বভরে নিচ থেকে তাকিয়ে দেখব! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকিয়ে দেখবেন উপর থেকে! কিভাবে মহাশূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছে তাঁর নামাঙ্কিত স্যাটেলাইট, আমাদের সদাতৎপর বান্ধব, আমাদের সদাসতন্ত্র প্রহরী রূপে!

Leave a comment