৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বার্তাটি লিখেছেন: আশফাকুর রহমান

আমার সম্পর্কে : বার্তা বিভাগ প্রধান
প্রচ্ছদ বিভাগ সিলেট

১৫ ঘন্টা পর যে সকল শর্তে প্রত্যাহার হলো অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদন: অবশেষে ১৫ ঘন্টা পর সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করলো সিলেট বিভাগীয় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়ন। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আশ্বাস এবং জনপ্রতিনিধি’সহ ট্যাংক লরি মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন আশ্বাসে ২৪ঘন্টার সময় দিয়ে সেই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। আজ শনিবার বেলা ১ টা ৩০ মিনিটের দিকে বিভাগীয় ট্যাংকলরি কার্যালয়ে এ সিদ্ধান্ত হয়। বেলা ১টা ৪০ মিনিটে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

সিলেট বিভাগীয় ট্যাংক লরির শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমদ রিপন হত্যার প্রতিবাদে ও আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।

তবে ইতিমধ্যে রিপন খুনের ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।গ্রেফতারকৃতরা হলো- বরইকান্দি এলাকার নোমান আহমদ (৪০) ও সাদ্দাম আমহদ (২৮)।

বৈঠকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশের ডিসি সোহেল আহমদ মিয়া, এসএমপি ট্রাফিক পুলিশের ডিসি ফয়সল মাহমুদ, দক্ষিণ সুরমা থানার এসি ইসমাঈল আহমদ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, বাংলাদেশ সিএনজি ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মোঃ জুবায়ের আহমাদ, বিভাগীয় ট্যাংক লরি মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ হুমায়ুন আহমদ, ২৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র তৌফিক বক্স লিপন, ২৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাকবির ইসলাম পিন্টু প্রমুখ।

সিলেট ভিাগীয় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সকল দাবী পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কছে উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ট্যাংক লরি শ্রমিক ফেডারেশন চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া। নিহত রিপন নিয়ে সকল ঘটনা ও পুলিশের ভূমিকা এবং অভিযোগ তুলে ধরেন ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মনির মিয়া।

যে সকল দাবী পুরনের আশ্বাস :
বাংলাদেশ ট্যাংক লরি শ্রমিক ফেডারেশন চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া দাবীগুলো উপস্থাপন করেন। প্রথমে তিনি বলেন, আমরা দেশ ও জনগনের সার্থ দেখে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছি। আমরা সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না। শুধু পুলিশ আমাদেরকে কষ্ট দিয়েছে। তাই এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিসি মোঃ সুহেল মিয়া সকল দাবী পুরনের আশ্বাস দেন এবং শ্রমিকদের পাশে থেকে সকল কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মামলার এজাহারে থাকা সকল আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। এতে শ্রমিকরা সন্তুষ্ট হয়ে সাথে সাথে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

কর্মসূচি দাবী :

এক. আগামীকাল (রোববার) সারাদেশে কর্ম বিরতি পালন ও শোক পালন করবে সকল ট্যাংক লরি শ্রমিকরা। আর সেই কর্মবিরতি চলবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। তবে রাস্তায় নয়। সংগঠনের অফিসে।

দুই. সিলেট বিভাগের সকল ট্যাংক লরি আগামীকাল রোববার ও সোমবার কোন তেলের ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করবে না। সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।

তিন. আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ প্রশাসনকে ২৪ঘন্টার সময় দেওয়া হয়েছে। যদি এই সময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে বাংলাদেশ ট্যাংক লরি শ্রমিক ফেডারেশন সারাদেশে অবরোধসহ কঠোর কর্মসুচি ঘোষণা দিবে। এর আগ থেকেই সিলেটে ফের সড়ক অবরোধ করে রাখা হবে।

চার. ২৪ ঘন্টার ভিতর অখিযুক্ত দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ খাইরুল ফজল, সেকেন্ড অফিসার রিপন দাস, কদমতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফয়েজকে প্রত্যাহার করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ তাদের জন্যই এ হত্যাকান্ড হয়েছে। যদি মামলার আসামী গ্রেফতার করা হতো, তাইলে আজ এই হত্যাকান্ড হত না বলে দাবী করেন ফেডারেশর চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া।

পাচ. নিহত রিপনের সাথে আহত ব্যক্তি বাবলা এর সু চিকিৎসার দায়ভার পুলিশ প্রশাসনকে নিতে হবে।

ছয়. রেলওয়ে প্রকৌশলী আলী আকবরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

ফেডারেশর চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া বলেন, আমরা সময় দিচ্ছি আসামীদের গ্রেফতারের, যদি এ সময়ের ভিতরে আসামীরা গ্রেফতার না হয়, তাইলে কর্মসুচি হবে ভয়াবহ। আমরা লাশ দাফন-কাফন করবো। জনগনের কষ্ট যেন না হয়। তাই অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলাম।

Leave a comment