৭ই জুলাই, ২০২০ ইং , ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বার্তাটি লিখেছেন: Shuddho Barta

আমার সম্পর্কে : This author may not interusted to share anything with others
প্রচ্ছদ বিভাগ এক্সক্লুসিভ

ইউ পি চেয়ারম্যান মোঃ আবতাবুজামান সংখ্যালঘু হিন্দু ধর্মীয় মন্দিরে হামলা

রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানার অন্তর্গত দক্ষিণ পাড়া সার্বজনীন হরি মন্দির এর নির্মাণাধীন বাউন্ডারি ওয়াল লাথি দিয়ে ভেঙেছে ইউনিয়ন পরিষদের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান মোঃ আবতাবুজামান @ আক্তার । (জাতীয় পার্টি সমর্থিত) ২৭ শে জুন বিকাল ৫ টায় এই ঘটনা ঘটে । বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবের কারনে এই আক্রমন করেছেন ।

ইউ , পি চেয়ারম্যান মোঃমোঃ আবতাবুজামানের বিরুদ্ধে এই ধর্মীয় সহিংসতার অভিযোগে গঙ্গাচড়া থানায় মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী কনক রায় মামলা করলে আক্তার গ্রেফতার হন । কিন্তু দুঃখের বিষয় এই প্রভাবশালি বাক্তি ২৮ তারিখ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত হয়ে মন্দির কমিটির উপর ছড়াও হয় । এতে আরম্ব হয় প্রভাবশালিদের খেলা ।

বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ জানতে পারে যে গত ২৭ জুন অনুমান ৫ ঘটিকার সময় মোঃ মোঃ আবতাবুজামান @ আক্তার সার্বজনীন হরি মন্দির এর প্রাচীরে অনধিকার প্রবেশ করে মন্দির কমিটির সভাপতি কে উদ্দেশ্য করেগালিগালাজ করতে থাকে এক পর্যায়ে টাকা দাবী করে এবং পুনরায় তাকে মারতে না পেলে ওই চেয়ারম্যান মন্দিরের নির্মাণাধীন প্রাচীরে পা দিয়ে লাথি মেরে ভাঙচুর করে, ক্ষতি হয় ১২ হাজার টাকার মত । এহেন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কারনে তখন হিন্দুদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছিল।

বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচে্র পক্ষে আমি অ্যাড রবীন্দ্র ঘোষ গঙ্গাছরা থানার অফিসার ইন চার্জ সুশান্ত কুমার সরকারের সঙ্গে কথা বলি , তিনি আমাকে বলেন ২৭ জুন-২০ এহেন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান মোঃ দণ্ডবিধির ৪৪৮/২৯৫/৫০৬/৪২৭ ধারায় মামলা নং ১৯ দায়ের হয় ,মোঃ আবতাবুজামান কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে । তিনি আরও বলেন জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরের দিন (২৮ জুন) কি কারনে জামিন দিয়েছে সেটা উ্নি বলতে পারেন না । তবে মামলা দায়েরের সময় বাদী টাকা দাবির কথা না বলার কারনে ( জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হয় নাই ) যার ফলে আসামি জামিন হয়ে যায় ।

২৯।৬।২০২০ তারিখ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম পর্যালোচনা না করে আসামিকে জামিন প্রদান করেন । হিন্দুদের ধারনা হিন্দুদের পবিত্র স্থানে এহেন ভাঙচুর করা্র ঘটনাকে আমল না দিয়ে বিচার বিভাগের এহেন প্রশ্রয় ধর্মীয় সহিংসতাকে উস্কিয়ে দেওয়ার সামিল ।

বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ এর পক্ষে আমি অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ রংপুর জেলার মোঃ শওকত আলি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলি তিনি বলেছেন রংপুরে তার অনুপস্থিতিতে অন্য একজন জুডিশিয়াল অফিসার এই জামিনের আদেশ প্রদান করেছেন তবে তিনি বলেছেন বিষয়টি যেহেতু স্পর্শকাতর ধর্মীয় অনুভূতির বিষয় সেহেতু জামিন বাতিলের দরখাস্ত পেশ করলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের রংপুর প্রতিনিধি শ্রী ধীমান ঠাকুর বলেছেন যে চেয়ারমানের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক একজন এলাকার চেয়ারম্যান হিসেবে এই ধরনের কাজ নাক্করজনক । সংখালঘুরা বিচার না পেয়ে দেশ ত্যাগ করছেন – হিন্দুরা বিচার চাই ।

বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবতাবুজামান কতৃক হিন্দু মন্দিরে অনধিকার প্রবেশ করে টাকা দাবী এবং তার পা দিয়ে নির্মাণাধীন বাউন্ডারি ওয়াল লাথি দিয়ে ভাঙ্গার ঘটনাকে তীব্র নিন্দা করছে – ধর্মীয় সনহিংসতার কারন ঘটিয়েছেন । দ্বিতীয়ত ২৮ জুন তারিখ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি পর্যালোচনা না করে আসামিকে জামিন প্রদান করা সমীচীন হয় নি বলে মনে করে ।

অনতিবিলম্বে আসামিকে পুনঃ গ্রেফতার করে আইনের আউতায় এনে শাস্তির দাবী জানাচ্ছে । সকল ধর্মের সমান অধিকার প্রতিস্টা করা সংবিধানের মুল উদ্দেশ্য অবিচল রাখতে হবে ।

Leave a comment