১১ই আগস্ট, ২০২০ ইং , ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বার্তাটি লিখেছেন: Shuddho Barta

আমার সম্পর্কে : This author may not interusted to share anything with others
প্রচ্ছদ বিভাগ এক্সক্লুসিভ

আইন পেশায় অমিত সম্ভাবনার হাতছানি-গাজী সাইফুল হাসান

বিষয় ভিত্তিক পেশার মধ্যে অ্যাডভোকেট হিসেবে আদালতে আইন চর্চা, বিচারক হিসেবে বিচার কার্য আর শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা এই তিনের যে কোনো একটিতে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়েছে দীর্ঘকাল আইনের শিক্ষার্থীদের। একবিংশ শতকে এই চিত্রের বহুল পরিবর্তন ঘটেছে। সময়ের প্রয়োজনেই প্রতিনিয়ত আইন শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। এই সময়ে অ্যাডভোকেট আর বিচারক হিসেবে নিযুক্তির যোগ্যতাসমূহেও হয়েছে পরিবর্তন। আইনে আবশ্যিক অধ্যয়ন যে সকল পেশায় প্রবেশের পূর্বশর্ত এমন সকল পেশা সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই এই প্রবন্ধের উদ্দেশে। আইন সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রবেশের পর অভিজ্ঞতা আর আগ্রহের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পেশায় নানা ধরণের কর্মকাণ্ডে সংযুক্তি বা নানাবিধ পদে আসীনের সুযোগ ঘটে। সে বিষয়েও ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে পেশায় প্রবেশ আর সফলতা এক বিষয় নয়। আইন শিক্ষার্থীদের যেমন শুরুতেই ধারণা অর্জন করতে হয় ভবিষ্যতে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য নানাবিধ পেশাসম্পর্কে। আগ্রহ সৃষ্টি বা আগ্রহ অনুসারে প্রস্তুতি লাভেও উক্ত বিষয়সমূহ সহযোগিতা করে থাকে।

◆ অ্যাডভোকেট: আদালতে একজন বিচারপ্রার্থী নিজে বিচার প্রাপ্তির সাথে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরচিালনায় সক্ষম না হলে বিচারপ্রার্থীর পক্ষে মামলা ও মোকদ্দমায় প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আইনগতভাবে যোগ্য ব্যক্তি হলেন একজন অ্যাডভোকেট। আইনে উপযুক্ত ডিগ্রি [এলএল.বি./এলএল.বি. (অনার্স)] লাভের পর একজন তাঁকে অ্যাডভোকেট হতে এতদসংশ্লিষ্ট বাংলাদেশের প্রচলিত আইন বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনারস্ অর্ডার এন্ড রুলস্ ১৯৭২ অনুযায়ী কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে সনদ লাভের মধ্য দিয়ে উপযুক্ততা অর্জন করতে হয়। আইনে যথোপযুক্ত ডিগ্রিধারীদের অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। আইনের বিধান অনুযায়ী অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী ব্যক্তিকে অ্যাডভোকেট হিসেবে দশ বছর তালিকাভুক্ত হয়েছেন এমন অ্যাডভোকেটের অধীনে ছয় মাস শিক্ষানবীশ হিসেবে অতিবাহিত করতে হয়। শিক্ষানবীশ হিসেবে ছয় মাস অতিক্রান্তের পর বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি (নৈর্বত্তিক), ১০০ নম্বরের লিখিত এবং নির্ধারিত মৌখিক পরীক্ষায় যথাযথভাবে উত্তীর্ণের মাধ্যমে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যায়। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির পর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের অধস্তন যে কোনো আদালত বা ট্রাইবুনালে অ্যাডভোকেট হিসেবে পেশাগত কর্ম শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট অ্যাডভোকেটকে বাংলাদেশের ৬৪টি স্থানীয় জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে পছন্দনীয় একটি বার অ্যাসোসিয়েশনে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। বার কাউন্সিলের অনুমোদন ব্যতীত ভর্তি হওয়া স্থানীয় বার অ্যাসোসিয়েশন পরিবর্তন করা যায় না।
পেশাগত কর্ম দক্ষতা, আগ্রহ ও অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে একজন অ্যাডভোকেট অধস্তন আদালতে সরকারের পক্ষে মামলা ও মোকদ্দমা পরিচালনায় সহযোগিতা করতে এপিপি, এজিপি, জিপি ও পিপি হিসেবে নিয়োগ লাভ করে থাকেন। এই পদসমূহে নিয়োগ কার্যক্রম সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়।
নিম্ন আদালতে অ্যাডভোকেট হিসেবে দুই বছর বা ক্ষেত্রবিশেষ একবছরের অভিজ্ঞতা (এলএল.এম. ডিগ্রি থাকলে অথবা ব্যারিস্টার হলে) সাপেক্ষ একজন অ্যাডভোকেট উচ্চতর আদালত অর্থাৎ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত পরীক্ষায় (সম্প্রতি সুপারিশকৃত প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা) অংশগ্রহণের আবেদন করতে পারেন।
সুপ্রিম কোর্টে সরকারের পক্ষে মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনায় সহযোগিতার উদ্দেশ্যে অ্যাডভোকেট হিসেবে নির্দিষ্ট দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ লাভের সুযোগ ঘটে। এই পদসমূহে নিয়োগ কার্যক্রম সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়।
হাইকোর্ট ডিভিশনে অ্যাডভোকেট হিসেবে পাঁচ বছর অতিক্রান্তে আপিল বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করা যায়। জ্ঞান, সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিগণ অথবা এনরোলমেন্ট কমিটি আপিল বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্তির আবেদন বিবেচনা করে থাকেন। আপিল বিভাগে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হিসেবেও তালিকাভুক্তির সুযোগ রয়েছে। আপিল বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসেবে কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মর্যাদার আবেদন প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতিগণ অথবা এনরোলমেন্ট কমিটি বিবেচনা করে থাকেন।
◆ বিচারক : ২০০৭ সালে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পূর্ব পর্যন্ত সরকারি কর্মকমিশন কর্তৃক বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিসিএস (বিচার) ক্যাডারে বিচার বিভাগের প্রবেশ পদে নিয়োগ দান কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ২০০৭ সালে বিচার বিভাগে প্রবেশ পদে অর্থাৎ সহকারী জজ নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন নামে আলাদা কমিশন গঠন করা হয়। জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক গৃহীত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা আইন বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এলএল.বি. অথবা দ্বিতীয় শ্রেণিতে এলএল.এম. ডিগ্রি অর্জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর।
জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন তিনটি ধাপে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি, ১০০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে উপযুক্ত পরীক্ষার্থী নির্বাচিত করে থাকে। কর্মজীবনে একজন বিচারকের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন আদালতের বিচারকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আইন সংশ্লিষ্ট সরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে নানা পদে যেমন: সুপ্রিম কোর্টে উভয় বিভাগে রিসার্চ অফিসার, রেজিস্ট্রার জেনারেল অফিসে ব্যক্তিগত সহকারী, সুপ্রিম কোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার, রেজিস্ট্রার, অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর গুরুত্বপূর্ণ পদে ইত্যাদিতে প্রেষণে কর্মসম্পাদনের সুযোগ ঘটে থাকে। জুডিসিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তাবৃন্দ সতন্ত্র বেতন স্কেলে বেতন পেয়ে থাকেন।
◆ শিক্ষকতা: সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে শিক্ষকতার যোগ্যতা হিসেবে এলএল.বি. (অনার্স) ও এলএল.এম. সম্পন্ন করতে হয়। উচ্চতর ডিগ্রি, গবেষণায় আগ্রহী মানসিকতা এবং গবেষণা সম্পর্কিত পূর্ব অভিজ্ঞতা শিক্ষকতায় স্থায়ীপদসমূহে প্রবেশের দ্বার উন্মুক্ত করে। আইন কলেজসহ এসকল প্রতিষ্ঠানে অতিথি শিক্ষক হিসেবেও নিযুক্তি লাভের সুযোগ রয়েছে।
◆ সরকারি প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা: সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ এবং আগ্রহী অ্যাডভোকেটবৃন্দের মধ্য থেকে আইন উপদেষ্টা বা প্যানেল অ্যাডভোকেট হিসেবে নিয়োগের উদাহরণ সচারচার দৃশ্যমান হলেও প্রতিষ্ঠানের আভ্যন্তরীণ আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের উদাহরণ সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যহারে দৃশ্যমান হচ্ছে। এসকল পদসমূহে কখনও শুধু আইনে ডিগ্রি সম্পন্নকারী অথবা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকভুক্ত অ্যাডভোকেট হওয়ার শর্তে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে থাকে। এসকল পদসমূহের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি চাকুরির সাধারণ বয়সসীমার প্রযোজ্যতার বিধান দেখা যায়। সরকারি কর্মকমিশন বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে নন-ক্যাডার হিসেবে অথবা কর্মকমিশন সরাসরি পরীক্ষা গ্রহণ অথবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সরাসরি পরীক্ষার (প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক) মাধ্যমেও আইন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দান করে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইন কর্মকর্তা হিসেবে সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রকাশ অথবা বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে নিয়োগ দান করা হয়েছে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জ কমিশন, কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথোরিটিস (সিসিএ), বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, বিটিআরসি, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, পেট্রোবাংলার অধীনস্থ গ্যাস কোম্পানীসমূহ ইত্যাদি।
◆ সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা: সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ প্যানেল অ্যাডভোকেট বা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের প্রচলনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশেষত ব্যাংকগুলোতে আভ্যন্তরীণ আইন কর্মকর্তা নিয়োগের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। ব্যাংকগুলোতে সাধারণত কেন্দ্রের কর্পোরেট শাখার পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা শহরে অবস্থিত শাখাগুলোতে আইন কর্মকর্তাকে পদায়ন করতে দেখা যায়। হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনে আইন কর্মকর্তা হিসেবে জেলাশহরে কর্মের সুযোগও পরিলক্ষিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এলএল.বি. (অনার্স) ও এলএল.এম. ডিগ্রি অর্জন এসকল প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা পদে আবেদনের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশিত থাকে।
◆ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা: দেশে নানা ধরণের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ লাভের সুযোগ রয়েছে। মূলত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সাধারণ কতিপয় বিষয় দেখভালের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কর্মের ধরণের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয় আইন কর্মকর্তা কাজ অথবা দায়িত্ব পালনের ধরণ। এভাবে কর্মের ব্যাপ্তির উপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইন কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি করা হয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এলএল.বি. (অনার্স) ও এলএল.এম. ডিগ্রি অর্জন এসকল প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা পদে আবেদনের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশিত থাকে। প্রতিষ্ঠানের কর্মের ধরণ ও প্রয়োজনেই বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেট হওয়ার শর্তও জুড়ে দেয়া থাকে বিজ্ঞপ্তিতে।
◆ দেশি ও বিদেশি এনজিওতে আইন কর্মকর্তা: দেশি ও বিদেশি এনজিওগুলোতে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বিদেশী অর্থায়নে পরিচালিত এসকল সংস্থায় আইনী নানা ধরণের সেবামূলক কার্যক্রম গৃহীত হওয়ার দরুণ আইনে ডিগ্রিধারীদের সংযুক্তির সুযোগ ঘটে।
◆ আন্তর্জাতিক নানা প্রতিষ্ঠান এবং জাতিসংঘসহ জাতিসংঘের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা: আন্তর্জাতিক নানা প্রতিষ্ঠান যেমন: ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, জাতিসংঘসহ জাতিসংঘের বিশেষায়িত নানা সংস্থা যেমন: ইউএনডিপি, ইউএনএইচআরসি, আইসিআরসি, আইএলও ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশস্থ দপ্তরে আইন কর্মকর্তা হিসেবে আইনে ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এই সকল প্রতিষ্ঠানে আবেদন প্রক্রিয়া একটু ভিন্ন ধরণের। চাকুরি প্রার্থীকে ব্যক্তিগত, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পদে প্রার্থী হিসেবে উপযুক্ততার কারণ এবং পূর্বে অর্জিত জ্ঞানসমূহ সংশ্লিষ্ট কর্মে কিভাবে সহযোগিতা করবে তা আবেদনেই উল্লেখ করতে হয়। সাধারণ তথ্যের পাশাপাশি প্রার্থীর লিখিত বক্তব্য অনেকাংশে প্রাথমিক যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবেদন বাছাইয়ের পর মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নিয়োগ লাভ করে থাকে।
◆ প্রতিরক্ষাবহিনীতে আইন কর্মকর্তা: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে জাজ অ্যাডভোকেট জেনারেল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মলাভে সুযোগ রয়েছে। শারীরিক পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, আইএসএসবি পরীক্ষায় চূড়ান্ত সফলতার মাধ্যমে এই পদসমূহে নিয়োগ চূড়ান্ত হয়ে থাকে। উক্ত পদসমূহে আবেদনের জন্য এলএল.বি. (অনার্স) অথবা অনার্সসহ এলএল.এম. ডিগ্রিকে-কে নুন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে লক্ষ্য করা যায়।
◆ শ্রমকল্যাণ কর্মকর্তা (আইন): আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পোশাক শিল্প ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে শুধু শ্রমআইন ব্যবস্থাপনার জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান করা হয়ে থাকে।
◆ বিষয় ভিত্তিক আইন চর্চা: বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন, অভিগমন সংশ্লিষ্ট আইন, রাজস্ব ও আয়কর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে আইনে ডিগ্রিসম্পন্নকারীরা নিজেদের সংযুক্ত করার মাধ্যমে সফল পেশাগত জীবন পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।

বিভাগীয় প্রধান,
আইন ও বিচার বিভাগ,
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি,
সিলেট, বাংলাদেশ ।

Leave a comment