১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বার্তাটি লিখেছেন: mahfuz ahmed

আমার সম্পর্কে : প্রতিনিধি
প্রচ্ছদ বিভাগ সিলেট

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনকে ঘিরে এক সিলেট আওয়ামী লীগ

এক সময় সিলেট আওয়ামী লীগকে শাসন করেছেন প্রয়াত স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। সিলেট-১ আসনের এমপি ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হওয়ার কারণে তার সমাদর ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে তৃণমূলে।

রাজনীতিবিদ না হলেও নিজের ব্যক্তিত্বই তাকে সিলেট আওয়ামী লীগের অভিভাবক হিসেবে পরিচিতি দিয়েছিল। প্রয়াত স্পিকারের মৃত্যুর পর সেই রাজনীতির হাল ধরেছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার আমলে সিলেট আওয়ামী লীগের পূর্বের আব্দুস সামাদ আজাদের অনুসারীরা তেমন সুবিধা করতে পারেননি।

এ কারণে প্রকাশ্যে না থাকলেও ভেতরে ভেতরে ওই বলয়ের নেতারা মুহিতের বিরোধীই ছিল। কিন্তু এবার প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। সিলেট আওয়ামী লীগে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

সিলেট আওয়ামী লীগে সবার সঙ্গে তার সখ্য। কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। নিজেও বলয় তৈরি থেকে দূরে থাকছেন। সমান চোখে দেখছেন সবাইকে। আর হস্তক্ষেপ করছেন না সিলেটের রাজনীতিতেও। ফলে সম্মেলনকে ঘিরে সিলেটে কোন্দল ততোটা প্রকাশ্য হচ্ছে না। না হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সিলেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন নিজেও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘এবার সিলেটে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য কমিটি আসবে বলে আশাবাদী।

দলের সভানেত্রী, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, সিলেটের নেতারা এবং তৃণমূল কর্মীরা মিলে গতিশীল কমিটিই উপহার দেবেন।’ আর এই নেতৃত্ব আগামী দিনে আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। ড. একে আবদুল মোমেন এখন সিলেট আওয়ামী লীগের অভিভাবক। প্রয়াত স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উত্তরসূরি তিনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে তিনি প্রথমবার এমপি পদে প্রার্থী হন।

বিজয়ী হওয়ার পর তিনি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সিলেটের রাজনীতির সঙ্গে তিনি পরিচিত বেশি দিনের নয়। কিন্তু কম সময়েই তিনি রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে বাজিমাত করেছেন। ২০১৬ সালের দিকে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে জাতিসংঘ মিশন ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।

তখন অর্থমন্ত্রী তার আপন বড় ভাই ড. আবুল মাল আবদুল মুহিত। ভাইয়ের হাত ধরেই তিনি নিজ এলাকা সিলেটের রাজনীতিতে নামেন। মুহিতও ছেড়ে দেন ভাইয়ের জন্য জায়গা। নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটিতে সদস্য হওয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পা মাড়ান তিনি। পথ কঠিন হয়নি তার। নিজের ব্যক্তিত্বের কারণে অল্প দিনের ব্যবধানে তিনি আসন পাকাপোক্ত করে নেন।

সিলেটের মানুষের উন্নয়ন দাবি ও দলের  নেতাকর্মীদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তিনি প্রিয়জন হয়ে উঠেন। সিলেটের মানুষের সুখ, দুঃখের অংশীদার হয়ে উঠেন তিনি। তিনি রাজনীতিতে পা দেয়ার পরই আসেন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। এই নির্বাচনে তিনি দলের প্রার্থী কামরানের পক্ষে মাঠে সক্রিয় থাকেন। ভোট প্রচারণা চালান। ওই সময় থেকে সিলেট আওয়ামী লীগের আরেক কর্ণধার কামরানের সঙ্গেও তার আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর প্রতিদান কামরানও দিয়েছেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।

কামরান জাতীয় নির্বাচনে ড. একে আবদুল মোমেনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। সিলেটের রাজনীতিতে এখন ড. মোমেন-কামরান সম্পর্ক মধুর। এতে তেমন বিরোধী নয়  কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। পূর্বের দূরত্ব অনেক কমে গেছে। এতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন ড. মোমেন।

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল আগামী ৫ই ডিসেম্বর। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সিলেট আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতার অন্ত নেই। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ৪টি পদের নেতৃত্ব কেড়ে নিতে প্রার্থী হয়েছেন অন্তত ২০ জন নেতা। এই প্রতিযোগিতায় যে যার মতো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার সংক্ষিপ্ত সফরে সিলেটে আসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সন্ধ্যায় সিলেটে এসে শুক্রবার সকালে ঢাকায় ফিরে গেছেন। ড. মোমেনকে ঘিরে সব বলয়ের নেতারা ছিলেন সক্রিয়। পদ নিয়ে মুখোমুখি থাকা নেতারা ড. মোমেন প্রশ্নে এক হয়ে তাকে নিয়ে পরিদর্শন করেছেন সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠ। এ মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। মাঠ পরিদর্শন শেষে ড. মোমেনও জানালেন উচ্ছ্বাসের কথা।

ডানপাশে সাবেক মেয়র কামরান ও বামপাশে সাবেক এমপি শফিককে নিয়ে তিনি মাঠ পরিদর্শন করেন। এ সময় বলেন, সম্মেলনকে ঘিরে সিলেটে উৎসব শুরু হচ্ছে। আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস বাড়ছে নেতাকর্মীদের। দলকে গতিশীল করতে হলে সময় মতো সম্মেলন দরকার বলে জানান তিনি। এ সময় ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও মহানগর সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সংসদ সদস্য শামীমা আখতার খানম,

মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল খালিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, নুরুল ইসলাম পুতুল, আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ সহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, ‘ড. একে আবদুল মোমেন সিলেট আওয়ামী লীগের সবার নেতা। তিনি একক ভাবে কোনো বলয় তৈরি করছেন না। তবে সম্মেলন উপলক্ষে কেউ কেউ নিজেদের মন্ত্রী বলয়ের নেতা দাবি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করবে। আশাকরি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।

সদরে নতুন কমিটি: সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্বের কমিটি বাতিল করে গত বৃহস্পতিবার রাতে নতুন কমিটি  ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কমিটির সভাপতি হলেন, মফিজুর রহমান বাদশাহ ও সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন। বাদ পড়েছেন বিতর্কিত হিরন মিয়া। গত সোমবার রাতে সদর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কান্দিগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিনকে সভাপতি এবং  মোগলগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিরন মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটি ঘোষণার পরপরই হিরন মিয়াকে নিয়ে নানা সমালোচনার জন্ম নেয়। হিরন মিয়া যুক্তরাজ্য বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি দেশে এসে কীভাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ নিয়ে গতকাল সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল  মোমেনের কাছে হিরন মিয়াকে অনুপ্রবেশকারী উল্লেখ করে তাকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানান সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও নেতৃবৃন্দ। এদিকে কমিটি ঘোষণার পর থেকে আগের বিতর্ক থেমে গেছে।

Leave a comment